হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান 

অবান্তর আজ এ প্রশ্ন 

আমরা সবাই বাঙালি 

বাংলা মায়ের সন্তান 

এ কথাই অগ্রগণ্য। 

আমাদের পরিচয় ধর্মে নয় 

কর্মে পরিচয় পাই-

আমরা সবাই মানুষ 

এটাই আমাদের শেষ পরিচয়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশে শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ হলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।

উত্তরঃ

"আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে" বলতে স্বাধীনতা অর্জনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের প্রেরণাকে বোঝানো হয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত 'জয় বাংলা' ধ্বনি একদিন বাংলার মানুষের প্রাণে সাড়া জাগিয়েছিল। তাদের স্বাধীনতার আকঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তুলে বুকে অসীম সাহস এনে দিয়েছিল। মহান নেতার অনুপ্রেরণায় বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যার যা কিছু আছে তা নিয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। বাঙালির স্বাধীন সত্তা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'জয় বাংলা' স্লোগানের শক্তি সঞ্চারের বিষয়টিই প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে ফুটে উঠেছে।

উত্তরঃ

'আমার পরিচয়' কবিতায় বাঙালির যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিচয় পাওয়া যায় তার সঙ্গে উদ্দীপকটি সম্পর্কযুক্ত। 

জাতি, বর্ণ বা ধর্মের কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম ভেদাভেদ সমাজকে খণ্ড-বিখণ্ড করে, এর ফলে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষ বাস করলেও তারা অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক। তাই যুগ যুগ ধরে তারা মিলেমিশে বসবাস করে আসছে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপদকে মোকাবিলা করেছে, সংগ্রাম করেছে।

'আমার পরিচয়' কবিতার মূলভাবে বাঙালির এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাই মূর্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরকে ভালোবেসে এক হয়েছে বিপদে, সংগ্রামে, সুখে-দুঃখে, যার পরিচয় ফুটে উঠেছে বাংলা সাহিত্যে। বাঙালি পরিচয়েই তারা যুদ্ধ করেছে অপশক্তির বিরুদ্ধে, স্বাধীন করেছে দেশকে। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে যে, বাঙালির পরিচয় ধর্মে নয়, কর্মে। কবি এখানে বাংলার মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাঙালি অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে। তারা মানুষ পরিচয়কেই বড় করে দেখে। এই চেতনায় বিশ্বাস করেই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়। 'আমার পরিচয়' কবিতায় এই চেতনায় বাঙালির একাত্ম হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকটি এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

উত্তরঃ

"আমরা সবাই মানুষ/এটাই আমাদের শেষ পরিচয়।"- 'আমার পরিচয়' কবিতার আলোকে পঙ্ক্তিটি গভীর তাৎপর্যমণ্ডিত।

ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বিভেদ মানুষের সত্যিকার পরিচয় খর্ব করে। তাই এগুলো কখনো মানুষের প্রকৃত সত্তার পরিচায়ক হতে পারে না। এই সংকীর্ণতার গণ্ডিতে বাঙালি আবদ্ধ নয়, সবকিছুর উর্ধ্বে সে তার মানুষ পরিচয়েই বিশ্বাসী।

'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জাতিসত্তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জীবনবোধকে নির্দেশ করেছেন। একই সঙ্গে এদেশে যে বিভিন্ন ধর্মের চর্চা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও মতাদর্শ বিস্তার লাভ করেছে সে কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে বাঙালির মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব-বিভেদ তৈরি হয়নি। কারণ তারা বিশ্বাস করে মানবতাই তাদের প্রকৃত সত্তা। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এই মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে। কে কোন ধর্মে বিশ্বাসী সেসব নিশ্চিহ্ন হয়েছে জাতির সংকটের মুহূর্তে। সবাই এক মানুষ পরিচয়েই বিশ্বাসী, বাঙালি মায়ের সন্তান হতে পারাটাই তাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের।

ধর্মবিশ্বাস যদি অন্ধ হয় তবে তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এই অন্ধবিশ্বাসীরাই বিভেদ তৈরি করে মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে। বাঙালি তার হৃদয়ের মহত্ত্বে এই সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করেছে, তারা বিশ্বাস করে যে তারা মানুষ এবং এটিই তাদের আসল পরিচয়। প্রশ্নোক্ত বাক্যে এবং 'আমার পরিচয়' কবিতায় এ ভাবটি প্রাধান্য পেয়েছে।

200

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,

আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।

চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।

তেরোশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে?”


আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ।

আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে। ।

আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।

আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে ।

 

এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে ।

এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।

আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে ।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে ।

এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থেকে ।

আমি তো এসেছি 'কমলার দীঘি’, ‘মহুয়ার পালা' থেকে।

আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত থেকে।

আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে ।

এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে ।

এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে ।

এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে ।

এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

 

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে ।

আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।

এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।

শুধাও আমাকে ‘এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?”

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির বীজমন্ত্রটি শোন নাই –

‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'

একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই –

সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই ।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews